
কক্সবাজারের টেকনাফে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার হোয়াইক্যংয়ে উত্তরপাড়া সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই এলাকায় নদীতে মাছ ও কাঁকড়া শিকারের সময় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আলমগীর (৩১) নামে এক জেলে গুলিবিদ্ধও হয়েছেন। তিনি টেকনাফের হোয়াইক্যং বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন বালুখালী গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ আহমদের ছেলে। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে উখিয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক (৬৪ বিজিবি) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। তারই সীমান্তবর্তী বসবাসকারীদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল এক জেলে নাফ নদে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তবে আমরা সীমান্তে সর্তক অবস্থানে আছি।’
গুলিবিদ্ধ জেলের পরিবার জানায়, গতকাল বিকালে এক সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে নৌকায় করে নাফ নদে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের জন্য যান আলমগীর। তারা নাফ নদের মধ্য ভাগে জেগে ওঠা ‘বিলাসীর দ্বীপ’ নামের জলসীমানায় পৌঁছালে হঠাৎ মিয়ানমারের দিক থেকে গুলি ছোড়া হয়। এ সময় একটি গুলি এসে আলমগীরের বাঁ হাতে লাগে।
আহতের ভাই ইউনুছ বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সঙ্গে থাকা সহযোগী দ্রুত আলমগীরকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। পরে আলমগীরকে প্রথমে উখিয়ার কুতুপালংয়ের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। এরই সূত্র ধরে শুক্রবার সকালেও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নাফ নদে জেগে ওঠা দুটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দেশটির রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা নবী হোসেন বাহিনীর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি আরাকান আর্মির সঙ্গে সশস্ত্র সংঘর্ষে জড়িয়েছে আরএসও। ওপার সীমান্তের তোতার দিয়া, হাসিমের দিয়া, বিলাসী দ্বীপ ও হসের দিয়া এলাকায় দখল ও পুনরুদ্ধার ঘিরে এ ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘ এক বছর শান্ত থাকার পর নতুন করে বিস্ফোরণে আতঙ্কে রয়েছেন সীমান্তের অন্তত আট হাজার মানুষ। ঝুঁকিতে পড়েছেন নাফ নদে মাছ ধরা হাজারো জেলে।
হোয়াইক্যং সীমান্তে বিজিবি বিওপির কাছাকাছি উত্তর পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ শহিদ বলেন, ‘আজকেও সকাল থেকে বেশ কয়েকটি গোলার বড় ধরনের বিকট শব্দ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া গতকাল গুলিতে এক জেলে আহত হয়। সবমিলিয়ে এখানকার লোকজন খুব ভয়ভীতির মধ্য আছেন।’
জানতে চাইলে টেকনাফের হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির এসআই খোকন কান্তি রুদ্র বলেন, ‘আজকে সকালেও মিয়ানমার সীমান্তে গোলার শব্দ পাওয়া কথা জানিয়েছে স্থানীয় লোকজন। এ ছাড়া গতকাল হোয়াইক্যং সীমান্তে নাফ নদে মাছ ও কাঁকড়া শিকারে গিয়ে বাংলাদেশি এক জেলে গুলিবিদ্ধ হন। তবে কার গুলিতে ওই জেলে আহত হয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাছাড়া সীমান্তে ওপারে প্রায় সময় গোলার শব্দ শোনতে পায় সীমান্তের বাসিন্দারা।’
এ বিষয়ে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, ‘সকাল থেকে আমার এলাকায় সীমান্তের ওপারে গোলার বিকট শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া একজন জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ফলে সীমান্তের লোকজনের মাঝে আতঙ্ক কাজ করছে। তবে সীমান্তে আমাদের বিজিবি সর্তক অবস্থানে আছে।’
জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, ‘হোয়াইক্যং সীমান্তে গোলাগুলি ঘটনায় সীমান্তে বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ জেলে পরিবারের খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’
আইএ/সকালবেলা